লুহানস্কের পতনের পর পুতিনের পরবর্তী লক্ষ্য কী?

ইউক্রেনে আরো একবার ঠিক একই ঘটনা ঘটতে দেখা গেল। রাশিয়ার আরো একটি অগ্রাভিযান – এবং ইউক্রেনীয় বাহিনীর আরো একটি পশ্চাদপসরণ।

এবারের ঘটনাস্থল লিসিচানস্ক।

বিবিসির জো ইনউড লিখছেন, এখানে তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী লড়াই হবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তা হলো না।

লুহানস্কের গভর্নর সেরহি হাইদাই বললেন – একটি “কৌশলগত সেনা প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে” সে লড়াই এড়ানো হয়েছে।

তার কথায় – কামানের সংখ্যা এবং গোলাবারুদের পরিমাণের দিক থেকে রাশিয়া বিরাট সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। অনেক দূর থেকেই তারা সবকিছু ধ্বংস করে দিতে পারতো – কাজেই এখানে অবস্থান নিয়ে থাকার কোন মানে হয় না।

লিসিচানস্ক শহর দখল করার যে বর্ণনা রুশ পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে – তার সাথে মি. হাইদাইয়ের কথা মিলে যায়।

তাদের শহরে ঢুকতে কোন বাধা মোকাবিলা করতে হয়নি। সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা গেছে – চেচেন যোদ্ধারা লিসিচানস্কের কেন্দ্রস্থলে নাচছে।

উল্লাস তো তারা করবেই। কারণ লিসিচানস্ক দখল করা মানে হচ্ছে লুহানস্ক অঞ্চলের প্রায় পুরোটাই রাশিয়ার দখলে চলে গেল।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ইউক্রেন অভিযান বা “বিশেষ সামরিক অপারেশনের” এটা ছিল অন্যতম প্রধান কৌশলগত লক্ষ্য।

ডনবাস দখলের যুদ্ধ বা সার্বিকভাবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য এটা কী অর্থ বহন করে?

রাশিয়া চায় পুরো ডনবাস অঞ্চলকে ‘মুক্ত’ করতে

প্রথমে ব্যাপারটা দেখা যাক রাশিয়ার দৃষ্টিকোণ থেকে। তাদের ঘোষিত লক্ষ্য হচ্ছে ডনবাস অঞ্চল দখল করা – তাদের ভাষায় “মুক্ত করা।”

লিসিচানস্ক দখলের মধ্যে দিয়ে পুরো লুহানস্ক রুশ নিয়ন্ত্রণে আসার পর প্রেসিডেন্ট পুতিন তার কম্যান্ডারদের সর্বোচ্চ ‘রাশিয়ার বীর’ খেতাব দিয়েছেন – যা থেকেও এ বিজয়ের গুরুত্ব বোঝা যায়।

কিন্তু এর পর কী হতে পারে? এখানে বেশ কয়েক রকমের চিত্র অনুমান করা যেতে পারে।

এটা মোটামুটি নিশ্চিত যে রাশিয়া এখন ডনবাসের বাকি অঞ্চল – অর্থাৎ দোনেৎস্কের বাকি অংশ – করায়ত্ত করার জন্য চেষ্টা করবে।

বিশেষ করে তাদের লক্ষ্য হবে স্লোভিয়ানস্ক এবং ক্রামাটরস্ক – ইতোমধ্যেই যেগুলোর ওপর রুশ গোলাবর্ষণ শুরু হয়ে গেছে। স্লোভিয়ানস্কের তাৎপর্য অন্যরকম, কারণ – ২০১৪ সালে রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদী অভ্যুত্থান এখান থেকেই শুরু হয়েছিল।

তবে এ দুটি শহর দখলের পর রাশিয়ার লক্ষ্য কী হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। এটা অনেকটা নির্ভর করে ডনবাস দখলের পর তাদের বাহিনীর অবস্থা কী হয় তার ওপর।

প্রেসিডেন্ট পুতিন পরোক্ষভাবে কথাটা স্বীকার করেছেন।

তিনি বলেছেন, যে ইউনিটগুলো লুহানস্কে যুদ্ধ করেছে, এবং সাফল্য ও বিজয় পেয়েছে, তাদের নিশ্চয়ই বিশ্রাম করা উচিত – যাতে তাদের যুদ্ধক্ষমতা বাড়ে।

এই সৈন্যরা যদি তাদের দ্রুতগতির অগ্রাভিযান অব্যাহত রাখে – তাহলে হয়তো তারা ইউক্রেনের পুরো দক্ষিণাংশ দখল করে নেবার প্রয়াস চালিয়ে যেতে পারে।

হয়তো দনিপ্রো শহর বা তারও পর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে এই অভিযান।

কিন্তু যদি তারা ক্লান্ত হয়ে গিয়ে থাকে – যেমনটা অনেক বিশ্লেষক বলছেন, বা মি. পুতিন আভাস দিচ্ছেন – তাহলে এমনটা হতেই পারে যে রাশিয়া হয়তো “বিশেষ সামরিক অভিযানের” সমাপ্তি ঘোষণা করতে পারে।

সেক্ষেত্রে হয়তো রাশিয়া মনে করতে পারে যে – একটি একতরফা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলে ইউক্রেনের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন কিছুটা ঝিমিয়ে পড়বে, এবং ফ্রান্স ও জার্মানির মতো কিছু দেশ তখন শান্তির জন্য চাপ প্রয়োগ করবে।

ইউক্রেন হয়তো তার পরও যুদ্ধ চালিয়ে যাবে । কিন্তু নিয়মিত অস্ত্রের সরবরাহ না থাকলে ফ্রন্টলাইনগুলোতে যুদ্ধে একটা অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে – যেমনটা ২০১৪ এবং ২০২২ সালে হয়েছিল।

এতে রাশিয়ারই লাভ হবে, কারণ তার প্রতিবেশী দেশে যদি অস্থিরতা এবং তোলপাড় চলতে থাকে তাহলে তার সুবিধা হবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *